ধারাবাহিকের শুরুতে আমরা দেখতে পাই তানিয়া অনিরুদ্ধ বাগানে খেলছিল। অন্যদিকে নয়ন তারা বাগানে বসেছিল যেখানে বান্টি তার পা টিপে দিচ্ছিল। তখনই নয়ন তারা বিড়বিড় করে বলে এতদিনের সত্যিটা যদি সবাই জেনে যায় তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে। হে ভগবান আমি তো ভাবতেই পারিনি এমন দিনও দেখতে হবে। এদিকে বান্টি বলে ম্যাডাম এই জন্য বলে ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না। বান্টির কথা শুনে নয়নতারা মনে মনে বলে এই যন্ত্রটাও সত্যিটা জানি নাকি? জানিনা আর কে কে সত্যিটা জানে। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পরে নয়ন তারা বান্টিকে জিজ্ঞেস করে।
তুই আমার কথা কিছু শুনতে পেলি নাকি এমনি এমনি বকছিস পরক্ষণে বান্টি বলে অনেকক্ষণ থেকে দেখছি আপনি খুব চিন্তিত মনমরা হয়ে আছেন। তাই কথাটা বললাম অপরদিকে শ্যামলী একটা নতুন সাইকেল কিনে তানিয়াকে দিয়ে বলে এই দেখো তোমার জন্য নতুন সাইকেল এনেছি। নতুন সাইকেল দেখে তানিয়া খুব খুশি হয় এবং পরক্ষণে সেখানে খাবার নিয়ে বান্টি চলে আসে এবং সাইকেল দেখে শ্যামলীকে বলে মামনি এটা তুমি কি করেছো। সাইকেলটা দেখে তো মনে হচ্ছে অনেক দামি তুমি কেন অযথা টাকা নষ্ট করতে গেলে তখন শ্যামলী বলে তোকে টাকা নিয়ে ভাবতে হবে না টাকা যখন তখন আসবে।
কিন্তু দেখ আমার নাতনীটা কি সুন্দর হাসছে এই খুশিটা তো আর আসবে না। তাছাড়া আমার কানের দুলটা বিক্রি করেছি আর জমানো কিছু টাক ছিলো। সেটা দিয়ে সাইকেলটা এনেছি পরবর্তীতে বানি আর কিছু না বলে তানিয়াকে খাবারটা খাইয়ে দেয়। এদিকে নয়নতারা বান্টিকে বলে তুই সাইকেলের কাছে গিয়ে মিষ্টি করে সাইকেলের ব্রেকটা খুলে দিবি। যখন মিষ্টি বাচ্চাটা মিষ্টি করে খেলতে যাবে তখনই যাতে মিষ্টি করে এক্সিডেন্ট করে পরে। সিনে তানিয়ার ছায়া শেষ হতেই তানিয়া সাইকেল নিয়ে খেলতে শুরু করে এবং সাইকেলের ব্রেক না থাকার কারণে ধাক্কা লেগেছে। ঠিক তখন অনিরুদ্ধ বান্টির উপর পড়ে যায়।
এরপর তানিয়ার সাইকেলের ধাক্কায় নয়ন তারা বান্টি কাঁদার মধ্যে পড়ে যায়। সেটা দেখে তানিয়া খুব হাসতে থাকে এবং অনিরুদ্ধ বলে, তুমি এমনটা কেন করলে? যখন দেখলে সাইকেলে কাজ করছিল না তখন তুমি ব্রেক চাপলে না কেন? পরক্ষণে তানিয়া বলে, আমি তোর ব্রেক ধরেছিলাম কিন্তু ব্রেকে কোন কাজই করলো না। অন্যদিকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অন্তরা আরজুর সাথে কথা বলছিল। তখনই তাপস বাইরে এসে দুজনকে একসাথে দেখে ফেলে এবং অন্তরাকে বলে তোমাকে তো আমি বাইরে বের হতে নিষেধ করেছিলাম। তাহলে কেন তুমি বাড়ির বাইরে বের হয়েছো? এরপর তাপস আর্যুকে বলে তোমাকেও আমি বলেছিলাম।
আমার মেয়ের আশেপাশে দেখলে তোমাকে পুলিশে দেব। তারপরেও তুমি এখানে এসেছো। এটা বলেই তাপস আর্যুকে মারতে থাকে। তখন অন্তরা বলে তুমি কেন আরোকে মারলে? ওর বাবা-মার কষ্ট হবে না? নিজের সন্তান কষ্ট পেলে বাবা-মায়ের কতটা কষ্ট হয় সেটা আমি তোমাকে দেখাবো। এটা বলে অন্তরার রাস্তায় পড়ে থাকা ব্লেড নিয়ে হাতের শিরা কেটে দেয়। এদিকে আমরা অনিরুদ্ধদের বাড়িতে দেখতে পাই। অনিরুদ্ধসহ সবাই মিলে খেতে বসেছে। তখন সাথী বলে, তুই এখনই অন্তরাকে একটা ফোন কর। আমি ওর বাবার সাথে কথা বলতে চাই। সাথীর কথাটা শুনে তাপস খুব ঘাবড়ে যায়।
আর মনে মনে বলে অন্তরার ফোন তো আমার কাছে রয়েছে। একটু আগেই সুইচ অন করেছি। এদিকে অনিরুদ্ধ মনে মনে বলে। তোমার এসব মিথ্যে বলা দেখে তোমার উপর আমার ঘৃণা জন্মেছে। পরবর্তীতে তাপস অনিরুদ্ধকে বলে কাল তোকে দুর্গাপুরে যেতে হবে। সেখানে আমাদের একটা ডিল করতে হবে। এসময় তোকে ছাড়া আমি অন্য কাউকে ভরসা করতে পারছি না। এরপর তাপস নিজেই মনে মনে বলে, কালকেই আমাকে অন্তরার বিয়ে দিতে হবে। না হলে সবটা হাতের বাইরে চলে যাবে। সবাই সবকিছু জেনে যাবে। পরের সিনে তাপস অন্তরাকে হসপিটালে নিয়ে যায়। তখন আর্য বাণীকে ফোন করে বলে তুমি এখনই তাড়াতাড়ি
হসপিটালে এসো অন্তরা হাতের শিরা কেটে ফেলেছে পরবর্তীতে বাণী অনিরুদ্ধ মিলে হসপিটালে যায় এবং অন্তরাকে বলে তুমি এসব কেন করতে গিয়েছো নিজেকে শেষ করে দিয়ে। কোন কিছু সমাধান হয় না তুমি এসব কেন করেছ অন্তরা তখন অন্তরা বলে বাবা যদি অন্য জায়গায় জোর করে বিয়ে দেয় তাহলে নিজেকে আমি শেষ করে দেবো। আমি আর্যোকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবো না। পরের সিনে পরের দিন আমরা দেখতে পাই বিয়ের কোণে সেজে অন্তরা বাণীকে ফোন করে বলে বাণীদি আজকে আমার বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে বাবা আমি তোমাকে মায়ের ফোন ফোনটা নিয়ে লুকিয়ে ফোন করলাম। তুমি কিছু একটা করো বাণীদি।
এটা বলে ফোনটা রেখে দেয়। তখন বাণী অনিরুদ্ধকে ফোন করে না পেয়ে আর্যকে নিয়ে মন্দিরে চলে আসে। মন্দিরে এসে বাণী বলে, এত মানুষের ভিড়ে আমি অন্তরাকে খুঁজে পাবো কোথায়? এখানে তো মনে হচ্ছে আজকে অনেক বিয়ে হবে। এদিক ওদিক তাকানোর পরে বাণী অন্তরাকে দেখতে পায়। এদিকে তাপস এসে বাণীকে বলে, তোমরা এখানে কেন এসেছো? এখন এখান থেকে চলে যাও। তখন বাণী বলে মেসোমশাই আপনি কিন্তু খুব ভুল করছেন। অন্তরাকে জোর করে বিয়ে ধুয়ে এভাবে বিয়ে দিলে অন্তরা সুখী হবে না। বাণীর কথাগুলো শুনে তাপস বলে অনিরুদ্ধ যে ভুলটা করেছে দ্বিতীয়বার।
আমি আর অন্তরাকে দিয়ে সেই ভুল করাতে চাই না। আগামী পর্বে আমরা দেখতে পাবো অনিরুদ্ধদের বাড়িতে এসে সবার সামনে অনিরুদ্ধ তাপসকে বলে, বাবা তুমি সবার সামনে স্বীকার করো অন্তরা তোমার মেয়ে। অনিরুদ্ধার কথাটা শুনে সাথী খুব চমকে ওঠে। আর বলে, তুই এটা কি বললি অনিরুদ্ধ? এই ছিল আজকের পর্ব। পরবর্তী নাটকের আপডেট গুলো দেখতে আমাদের এই ওয়েব সাইটটি ভালো করে রাখুন।
