মিথিলা তার জীবনের দীর্ঘ একটা সময় এই সংসারে ইনভেস্ট করেছেন। মা হওয়ার জার্নি এবং নিজের ক্যারিয়ার একসাথে সামলানো সহজ ছিলো না।
সমাজ মিথিলার 'সেপারেশন' কালীন ভিডিও নিয়ে তাকে বিচার করলেও, তাহসানের 'মেল ইগো' বা তার অসহযোগিতা নিয়ে খুব একটা কথা বলেনি। কিন্তু দিনশেষে মিথিলাও হয়তো তার সিদ্ধান্তের প্রতিদান পেয়েছেন পরবর্তী জীবনে।
তাহসান একজন উচ্চশিক্ষিত এবং মার্জিত মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও, রোজাকে বিয়ের সিদ্ধান্তটি ছিলো অনেকটা আবেগী বা অপরিপক্ক।
একজন ধার্মিক ও ঘরোয়া মানুষ যখন সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর কাউকে (যে কি না ক্যারিয়ার ও খ্যাতির লোভে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ত্যাগ করে এসেছে- এই কথাটা আপনাদের বলা) জীবনসঙ্গী করেন, তখন সেই সম্পর্কে ফাটল ধরাটা স্বাভাবিক।
তাহসান যদি সত্যিই ধার্মিক হয়ে থাকেন বা চলতে শুরু করে থাকেন, তবে তার উচিত ছিলো সমমনা কাউকে বেছে নেওয়া।
রোজার ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিলো পরিষ্কার—নিজের ক্যারিয়ার আর ফেমের জন্য তাহসানের মতো একজন জনপ্রিয় মানুষকে বেছে নেওয়া।
কিন্তু যে সম্পর্ক শুরু হয় 'ধোঁকা' দিয়ে (নিজের এক্স-বয়ফ্রেন্ডকে ছেড়ে আসা), সেই সম্পর্কের শেষটাও মধুর হয় না। তাহসানের হঠাৎ বদলে যাওয়া বা 'ধার্মিক' হয়ে ওঠা হয়তো রোজার উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে।
এখানে প্রত্যেকেই যেন কোনো না কোনোভাবে আগের কাজের প্রতিদান পাচ্ছেন।
📍মিথিলা যা করেছেন, তার ফল হয়তো তার পরের জীবনে এসেছে।
📍রোজা তার এক্স-কে ধোঁকা দিয়ে তাহসানের কাছে এসেছেন, এখন আবার তাহসান তাকে ছাড়ছেন।
📍তাহসান মিথিলাকে যেভাবে একা করেছিলেন, আজ হয়তো তিনিও একইভাবে একাকীত্বের মুখে।
মানুষের বাহ্যিক ইমেজ আর ভেতরের মানুষটা সবসময় এক হয় না। এই সেলিব্রিটি লাইফস্টাইলের আড়ালে নীতি-নৈতিকতার যে অভাব, তা-ই বারবার বিচ্ছেদের রূপ নিচ্ছে।
পৃথিবীটা গোল বলেই হয়তো আজ সবাই নিজ নিজ কাজের হিসেব পাচ্ছে।
